দীর্ঘদিন ধরে চলা পানির পাইপলাইন সংস্কারের ধকল কাটতে না কাটতেই এবার পয়োনিষ্কাশন বা স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য নতুন করে গভীর সংকটে পড়তে যাচ্ছেন ঢাকাবাসী। ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি ব্যস্ত সড়ক ধাপে ধাপে খনন করার বিশাল এক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) ৫ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা অর্থায়নে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাটির নিচের এই নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রাজধানীর প্রধান ও সংযোগ সড়কগুলো আবার কাটার সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা মহানগরীতে তীব্র ট্রাফিক জ্যাম, খানাখন্দ এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন সাধারণ নাগরিক ও নগর-পরিকল্পনাবিদগণ।
এই নতুন খোঁড়াখুঁড়ি নগরবাসীর জন্য নতুন করে এক দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পুরোনো ও অবৈধ পানির লাইন সংস্কারে বছরের পর বছর ধরে ঢাকার একের পর এক সড়ক ও গলি খনন করা হয়েছিল। সেই দীর্ঘ ভোগান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় স্যুয়ারেজ লাইনের জন্য সড়ক কাটার উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি সরবরাহ এবং পয়োনিষ্কাশন—উভয় ব্যবস্থাপনাই মাটির নিচের কাঠামোর সাথে যুক্ত হওয়ায় সংস্থাগুলোর মধ্যে সঠিক সময়ে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা থাকলে একই রাস্তা বারবার কাটার প্রয়োজন হতো না। এই তীব্র সমন্বয়হীনতার অভিযোগ স্বীকার করে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অতীতে ‘প্রযুক্তিগত’ ও কৌশলগত জ্ঞানের অভাবে একই সড়ক বারবার খুঁড়তে হয়েছে। তবে চলমান প্রকল্পে জনভোগান্তি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে এবং রাস্তা ভাঙার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে একটি সমন্বিত ও টেকসই রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
