বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় জেলা বরগুনা। এ জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। নারী শিক্ষার স্বার্থে এ বিদ্যালয়টি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন বিষয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে ৫২টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন শিক্ষক। ফলে শূন্য রয়েছে ২৯ টি পদ। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে কর্মরত শিক্ষকদের। এতে যেমন শিক্ষকদের ওপর বাড়ছে মানষিক চাপ, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানেও তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা।
শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত বিষয়ের শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে ক্লাস নিতে হচ্ছে। ফলে কোনো কোনো বিষয়ে ক্লাশে আমাদের পাঠদান হচ্ছে না। এজন্য বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করে ওই বিষয়ে কোচিং বা প্রাইভেট পড়তে হয়।
অভিভাবকরা বলেন, একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এত বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকে, তাহলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীদের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানের কার্যক্রম চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হয় বলে, প্রস্তুতি ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ৮’শ ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা অতিব জরুরি।
বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র ২৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা হোক, এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
