র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গতকাল বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত র্যাব সাড়ে ২২ বছর পর বিলুপ্ত করা হলো।
গতকাল বুধবার থেকে বাহিনীর সব কার্যক্রম এসআরবি নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহিনী প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত নতুন আইনের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গেজেটে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন।
নতুন করে গঠন হতে যাওয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সঙ্গে র্যাবের কোনো সংস্পর্শ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এইদিন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাস করানো হয়।
র্যাব বিলুপ্ত করার পর নতুন করে এসআরবি গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘র্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনও সংস্পর্শ নেই। র্যাব বিলুপ্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় না করে নতুন সংস্থায় সেগুলো হস্তান্তর করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসআরবির নিজস্ব পোশাক, লোগো, সদস্যদের ব্যাচ, যানবাহনের রংসহ আনুষঙ্গিক বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন। এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে নতুন নামে কার্যক্রম শুরু হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে মাঠপর্যায়ে র্যাবের বিদ্যমান সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যবহার অব্যাহত থাকছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড ইন্তেখাব চৌধুরী।
এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আইনটিতে পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। কমিটি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। সদস্যদের পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণসংক্রান্ত অভিযোগও এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সদস্যদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধসহ বিভিন্ন ধরনের লঘু ও গুরুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগও রয়েছে।
