March 14, 2026
শিশুদের হাসি-খুশিতে জমজমাট বইমেলার শেষ শিশুপ্রহর

অমর একুশে বইমেলা-তে শনিবার ছিল ষষ্ঠ ও শেষ শিশুপ্রহর। এদিন শিশুদের আনন্দ আর কোলাহলে মেলার পরিবেশ যেন উৎসবের রূপ নেয়। কেউ এসেছে মা–বাবার হাত ধরে, আবার কেউ পরিবারের বড়দের সঙ্গে। বই কেনা ও মেলা ঘুরে দেখার আনন্দে ছোটদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে বাবা–মায়ের সঙ্গে মেলায় আসে ইরহা ইসায়া রহমান। সে কিনেছে ‘দাদুর হাতে জাদুর কাঠি’, ‘একদিন সাগর পাড়ে’, ‘বোমার দেশে ঘাসের দেশে’, ‘সবুজ মেঘমালা’ ও ‘ভূত ও ভূমিকম্প’সহ কয়েকটি গল্পের বই।
ইরহার মা নুসরাত নওশিন জানান, তাঁর মেয়ে বই পড়তে খুব ভালোবাসে। বই পড়ে শেষ হলে সে সেগুলো স্কুলে দিয়ে দেয়, যাতে অন্যরাও পড়তে পারে।
সকাল ১১টায় মেলার দরজা খোলে এবং শিশুপ্রহর চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এরপর রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।
মেলায় ঘুরতে আসা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়তা জানায়, তার সবচেয়ে ভালো লাগে ভূতের গল্প ও রূপকথার বই পড়তে। সে তিনটি গল্পের বই কিনেছে।
খিলক্ষেত এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে মেলায় আসে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত খন্দকার। সে কিনেছে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল-এর সায়েন্স ফিকশন বই ‘রুহান রুহান’ এবং কমিকস ‘মহাকাশের প্রাণী’। আরাফাত জানায়, সায়েন্স ফিকশন পড়তে তার খুব ভালো লাগে।
এদিন শিশুদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের অনুষ্ঠান। কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও পাপেট চরিত্র ‘আলো’ ও ‘ব্লু’-এর গল্প ও গান শিশুদের দারুণ আনন্দ দেয়। মঞ্চের সামনে ভিড় জমিয়ে ছোটরা উপভোগ করে এই পাপেট শো।
শেষ শিশুপ্রহরে বই কেনা, গল্প আর বিনোদনের মধ্য দিয়ে শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে বইমেলার চত্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *