তেল চুরির অপরাধ হাতেনাতে ধরিয়ে দিয়েও আইনি গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে গেছেন সাধারণ এলাকাবাসী। চোরকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পর এখন উল্টো এলাকাবাসীর নামেই দায়ের করা হয়েছে চুরির মামলা, যা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ স্থানীয়রা এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে ব্যক্তিকে তেল চুরির দায়ে এলাকাবাসী অভিযুক্ত করেছিলেন, খোদ সেই ব্যক্তিকেই এই মানববন্ধনের সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে। চোর ও এলাকাবাসী একই কাতারে দাঁড়িয়ে বিচার চাওয়ার এই অদ্ভুত ও হাস্যকর দৃশ্য উপস্থিত জনতাকে হতবাক করে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতেই এই মিথ্যা মামলার ছক কষা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় তেলের ড্রাম চুরির ঘটনা ঘটছিল। পাহারার এক পর্যায়ে গত রাতে একজনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে দেন। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের তদবিরে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত জামিন পেয়ে যান এবং উল্টো যারা তাকে ধরেছিলেন, তাদের নামেই লুটতরাজ ও মারধরের মামলা ঠুকে দেন। সাধারণ মানুষ যখন এই অবিচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামলেন, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে কৌশলে উপস্থিত হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে এই হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তারা দ্রুত এই মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ, কারণ অপরাধী ও নিরপরাধ যখন একই সারিতে দাঁড়িয়ে বিচার চায়, তখন ন্যায়বিচারের পথটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে, অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করা না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
