April 11, 2026
image (20)

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. তৌফিক আলমকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা। শুক্রবার রাতে উপাচার্যের কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক শেষে ৬০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক। শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করা হলেও পরবর্তী দুটি সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়নি। শিক্ষকদের দাবি, পদোন্নতি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি তাঁদের ন্যায্য অধিকার। সহযোগী অধ্যাপক পদে থাকা শিক্ষকদের অনেকেরই ১৫ থেকে ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তাঁরা অধ্যাপক হতে পারছেন না। বর্তমানে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন, যা শিক্ষার গুণগত মান ও প্রশাসনিক কাঠামোকে চরম সংকটে ফেলেছে।

শিক্ষকদের পক্ষে চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাদেকুর রহমান জানান, সাড়ে পাঁচ মাস আগে সিলেকশন বোর্ড সম্পন্ন হলেও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষকেরা ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন না এবং চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক মাসে উপাচার্যের সাথে একাধিকবার বৈঠক করা হলেও শুধুমাত্র আশ্বাসের বাইরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, উপাচার্য মো. তৌফিক আলম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শনিবার গণমাধ্যমকে তিনি জানান, পদোন্নতির বর্তমান নিয়ম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তি রয়েছে। ইউজিসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত ‘অভিন্ন নীতিমালা’ অনুসরণ করেই পদোন্নতি দিতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখনও এই নীতিমালা অভিযোজন (Adaptation) করেনি। উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই অভিযোজন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ চলছে এবং নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই শিক্ষকেরা তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাবেন।

প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পার করলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট এখন প্রকট। ২১১ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬১ জন শিক্ষাছুটিতে থাকায় মাত্র ১৫০ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে ১৫০টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক না থাকায় অ্যাডভান্সড কোর্স এবং গবেষণার মান ব্যাহত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষকদের দেওয়া পাঁচ দিনের আল্টিমেটামের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকরী সমাধানে পৌঁছাতে পারে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *