September 17, 2026
WhatsApp Image 2026-09-17 at 11.20.40 AM

ঢাকায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত অংশীজন সংলাপ অনুষ্ঠানে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের সাত মাসের অপরাধের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, এ সাত মাসে দেশে নারী ধর্ষণের ৪০০টি, ধর্ষণের পর হত্যা ৩৭টি এবং ধর্ষণচেষ্টার ১৫২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ৬০৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২৪১টি ধর্ষণ ও ২১৩টি শিশু হত্যার ঘটনা রয়েছে। নারী ও কিশোরীদের যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের ঘটনাও ঘটেছে ১৯১টি।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এই সংলাপে তাহমিনা রহমান সভাপতিত্ব করেন। মানব পাচারের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তাহমিনা রহমান বলেন, ২০২৫ সালে এ-সংক্রান্ত ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। আর ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিচারাধীন বা তদন্তাধীন মামলা ছিল ৫ হাজার ২৮৪টি।

সংলাপে উপস্থাপিত মূল নিবন্ধে জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়- ২০০৯ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন আইনগত সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে ৩১ হাজার ২২২ জন এবং দেশের ৬৪টি জেলা আইনগত সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন সেবা পেয়েছেন। তবে আইনগত সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

সংলাপে বলা হয়-জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য দেশে ৯৫টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) ও সেল থাকলেও সব কেন্দ্রে চিকিৎসা, ফরেনসিক, আইনগত ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা সেবা, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও পৃথক কাউন্সেলিংয়ের স্থানও পর্যাপ্ত নয়।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজমিন সুলতানা বলেন, নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার লঙ্ঘিত না হওয়াই প্রকৃত সুরক্ষা। তবে অধিকার লঙ্ঘিত হলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংলাপে জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের নাগরিকতা, সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার ক্যাটরিনা কইনিগ, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভি আক্তার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির কোঅর্ডিনেটর ডা. তাইয়েবা সুলতানা এবং নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কামরুন্নাহারসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *