June 1, 2026
image (19)

পেয়ারা আামাদের দেশের পরিচিত একটি ফল। এটি নিয়ে আমাদের খুব বেশি আগ্রহ কিংবা অনাগ্রহ, কোনোটাই থাকে না। এই নীরবে খাবারের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া ফলটির রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে যে পেয়ারার রস শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে কি না? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে পেয়ারার রস পান করা আয়রন সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন যে পেয়ারার রস পান করলে তা আয়রন পরিপূরককে আরও কার্যকরীভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে, যা রক্তস্বল্পতার বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী উপায়। ‘বিএমজে নিউট্রিশন, প্রিভেনশন অ্যান্ড হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার নতুন পর্যালোচনা থেকে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন যে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল স্বাস্থ্যের উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে আয়রনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়।

রক্তস্বল্পতা এমন একটি অবস্থা যা শরীরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিন না থাকলে বিকশিত হয়। হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার একটি প্রোটিন যা শরীরের চারপাশে অক্সিজেন বহন করে। রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। এই অবস্থা বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং কিশোরী মেয়েদের মধ্যে সাধারণ কারণ তাদের শরীরে বেশি পরিমাণে আয়রন প্রয়োজন।

পেয়ারার রস হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে পারে কি না তা খুঁজে বের করতে গবেষকরা ইন্দোনেশিয়ায় পূর্বে পরিচালিত ১৭টি গবেষণা অধ্যয়ন করেছেন। গবেষণায় কিশোরী এবং গর্ভবতী মহিলা উভয়ই সম্পৃক্ত ছিল, যাদের মধ্যে অনেকেই আয়রন সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করছিলেন। গবেষকা দেখেছেন যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা পেয়ারার রস পান করেছে তাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রায় লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত পেয়ারার রস খাওয়ার পর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা গড়ে ১.৭১ গ্রাম/ডিএল বেড়ে যায়। গর্ভবতী মহিলাদের গড় ১.৮৪ গ্রাম/ডিএল বৃদ্ধি পেয়েছে, কিশোরী মেয়েদের গড় ১.৫২ গ্রাম/ডিএল বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকরা বলছেন যে এই উন্নতিগুলো মানুষকে হালকা বা মাঝারি অ্যানিমিয়া থেকে স্বাস্থ্যকর পরিসরে নিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *