বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ আয়ের শ্রেণিবিন্যাসে ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনসহ পাঁচটি দেশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ফলে দেশগুলো এ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতি বছর নির্ধারিত মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশকে নিম্ন, নিম্ন-মধ্যম, উচ্চ-মধ্যম এবং উচ্চ আয়ের চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবা খাতের সম্প্রসারণ এসব দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প, প্রযুক্তি, পর্যটন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণও মাথাপিছু আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেলেও এসব দেশের সামনে এখনো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আয়বৈষম্য কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ-মধ্যম আয়ের মর্যাদা ধরে রাখতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ আয়ের দেশের পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
