নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোতে মুখর রাজধানীর প্রবেশপথগুলো। তবে এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে দেশের দুই প্রান্তে যাতায়াতকারী মানুষের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। একদিকে পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়কগুলো রয়েছে একদম যানজটমুক্ত, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অন্তহীন দুর্ভোগ।
যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়নের সুবাদে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ এবারও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন। সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলো কোনো রকম বড় যানজট ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের আনন্দ যাত্রা শুরুর প্রথম মুহূর্ত থেকেই উপভোগ করছেন এই রুটের যাত্রীরা।
ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কসহ উত্তরাঞ্চলের রুটগুলোতে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, চালকদের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা এবং মহাসড়কের কিছু অংশে চলমান সংস্কার কাজের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে যানবাহন। তীব্র গরমের মাঝে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে চন্দ্রা ত্রিমোড়, কালিয়াকৈর এবং যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় মাইলের পর মাইল গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ঈদযাত্রা রূপ নিয়েছে এক মহাভোগান্তিতে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও গাড়ির অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মহাসড়ক পুলিশকে।
