আমাদের লিভার চুপচাপ অনেককিছু সহ্য করে নেয়। কিন্তু যখন তার সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন আপনি হয়তো বুঝতেও পারেন না। কারণ লিভারের সমস্যার লক্ষণগুলো বেশিরভাগ সময় নীরব এবং অস্পষ্ট হয়। দুর্বল লিভারের সম্ভাব্য লক্ষণগুলো অন্যান্য সাধারণ রোগের লক্ষণের সঙ্গে মিলে যেতে পারে, যে কারণে বেশিরভাগ মানুষ লিভারের সমস্যার জন্য শুরুতেই পরীক্ষা করান না। চলুন জেনে নেওয়া যাক লিভারের সমস্যার নীরব লক্ষণ সম্পর্কে, যেগুলোর দিকে আমাদের অবশ্যই নজর রাখতে হবে।
আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই ক্লান্তিকে কেবল শারীরিক পরিশ্রম বলে উড়িয়ে দিই। যদি আপনি বেশিরভাগ সময় ক্লান্ত বোধ করেন, যা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও দূর হয় না, তাহলে তা হতে পারে অসুস্থ লিভারের লক্ষণ।
যদিও চুলকানি অনেক কারণে হতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি, বিশেষ করে হাতের তালু এবং পায়ের পাতায় হলে সতর্ক হোন। কারণ তা আপনার লিভারের পিত্ত অ্যাসিড নিষ্কাশন করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে।
সাধারণত পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে গাঢ় রঙের প্রস্রাব হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পানের পরেও খুব গাঢ় রঙের প্রস্রাব হওয়া লিভারের রোগের একটি লক্ষণ। অন্যদিকে, খুব হালকা বা কাদামাটির মতো রঙের মল হওয়া পিত্তনালীর প্রতিবন্ধকতার লক্ষণ, যার সাথে সাধারণত তীব্র চুলকানি থাকে।
লিভার, কিডনি, হার্ট বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমতে পারে। কিন্তু লিভারের রোগের গুরুতর পর্যায়ে শরীরে পানি জমার ফলে পায়ে ফোলাভাব বা অ্যাসাইটিস দেখা দেয়।
যেহেতু কাটা বা আঘাতের পরে স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী বেশিরভাগ ক্লটিং ফ্যাক্টর, এনজাইম এবং রাসায়নিক লিভার দ্বারা সংশ্লেষিত হয়, তাই লিভারের রোগের কারণে শরীরে ছোটখাটো আঘাতে কালশিটে পড়তে পারে। অন্যদিকে বমি বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসা প্রায়শই লিভার ফেইলিউরের গুরুতর পর্যায়ের একটি লক্ষণ।
